খবরের বিস্তারিত...

ইসলামিক ফ্রন্টের কাউন্সিলে

গণতন্ত্রে অর্থনীতির বিকাশ ও সমৃদ্ধি অর্জনে রাজনৈতিক সুস্থতা অপরিহার্য -আনোয়ারুল ইসলাম খান

এপ্রিল 16, 2018 সাংগঠনিক খবর

পটিয়া ইসলামিক ফ্রন্টের কাউন্সিলে-অধ্যক্ষ আল্লামা কাজী আনোয়ারুল ইসলাম খান~~~
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে অর্থনীতির বিকাশ ও
সমৃদ্ধি অর্জনে রাজনৈতিক সুস্থতা অপরিহার্য
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ আল্লামা কাজী আনোয়ারুল ইসলাম খান বলেছেন-দেশ ও জাতি এমনি এক রাজনৈতিক বিভ্রান্তির ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, যেটিকে চরম আত্মবিস্মৃতি বললে অত্যুক্তি হবে না। আত্ম ও দলকেন্দ্রিকতার অশূভ প্রভাব-বলয়ে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে দেশের রাজনীতি। বিদ্যমান ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির যাঁতাকলে দেশের সাধারণ মানৃষ পিষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। জনগণের প্রতি প্রদত্ত কমিটমেন্টে বেমালুম ভুলে গিয়ে ক্ষমতায় আরোহন ও ক্ষমতায় টিকে থাকার অসম লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলগুলো। রাজনীতিতে জগদ্বল পাথরের ন্যায় চেপে বসেছে স্বাধীনতা বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী, অভিশপ্ত জঙ্গিবাদী ও নাস্তিক্যবাদী অপশক্তি। ফলে ক্রমাগতভাবে ভুলুন্ঠিত হচ্ছে রক্তার্জিত মহান স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধ। স্বাধীনতা পরবর্তী ৪৮ বছর একটি জাতির জন্য মোটেও কম সময় নয়। তথাপিও রাজনৈতিক অঙ্গনে অদ্যাবধি কোন রাজনৈতিক সমঝোত দৃশ্যমান হয় না। উপরন্তু রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে স্থায়ী প্রতিহিংসাপরায়নতা, জেদাজেদী ও গোঁয়াতুর্মি। যৎকারণে ক্রমগাতভাবে জাতীয় অথীনিতির চাকা শ্লথ হয়ে পড়েছে। এ কথা অনস্বীকার্য যে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে অর্থনীতির বিকাশ ও সমৃদ্ধি অর্জনে রাজনৈতিক সুস্থতা অপরিহার্য্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রধান বক্তার বক্তব্যে জনাব স ম হামেদ হোসাইন বলেছেন,-এ মুহুর্তে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমুলক নির্বাচন জনগণের নিকট অধিকতর প্রত্যাশিত। এ লক্ষ্যে-‘‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” তৈরীর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশমান ধারা অব্যাহত রাখা আবশ্যক বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন,-গণতান্ত্রিক শাসনের জন্য প্রয়োজন জনমতের সুষ্ঠু প্রতিফলন। এক্ষেত্রে নির্বাচনই একমাত্র সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। তাই গণতন্ত্রের ভীতকে অধিকতর সুদৃঢ় ও সুসংহত করতে নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের আবশ্যকীয়তা রয়েছে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলসমুহের মধ্যকার বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে এনে পারস্পরিক আস্থার সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপে এগিয়ে আসার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সমঝোতা দৃশ্যমান হয় না। সভাপতির বক্তব্যে এ এম মঈন উদ্দীন চৌধুরী হালিম বলেছেন,-স্মরনাতীতকাল থেকেই শিক্ষা-দীক্ষা সহ সার্বিক ক্ষেত্রে বরাবরই অগ্রসরমান এ পটিয়া উপজেলা। অসংখ্য জ্ঞানী-গুণী,ঋষি-মনিষী ও কীর্তিমান ব্যক্তিদের চারণভুমি হিসেবে বহুল প্রচার রয়েছে এ উপজেলার। শুধু তাই নয়, এদেশের গৌরবোজ্জল সকল সফল আন্দোলন সংগ্রামে বিরোচিত ভুমিকার কারনে ইতিহাসের গর্বিত অংশীদার এ পটিয়া উপজেলা। এতদসত্ত্বেও উন্নয়ন-অগ্রগতির ক্ষেত্রে এ উপজেলা পশ্চাৎপদ। ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত এ বিশালাকার পটিয়া বরাবরই বৈমাত্রিক অবহেলার শিকার। সাবেক মহকুমা খ্যাত এ পটিয়ার নিরবচ্ছিন্ন উনন্য়ন কর্মকান্ড ত্বরান্তিব করতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজরদারির উপর গুরুত্বারোপ করেন। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ পটিয়া উপজেলার উদ্যোগে অদ্য ১৪ এপ্রিল ২০১৮ইং রোজ শনিবার সকাল ১০টায় পটিয়াস্থ আব্দুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন। পটিয়া উপজেলা ইসলামিক ফ্রন্টের সভাপতি এ এম মঈন উদ্দীন চৌধুরী হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ আল্লামা কাজী আনোয়ারুল ইসলাম খান। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্জুমানে খুদ্দামুল মোসলেমীন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান হযরতুলহাজ্ব আল্লামা কাজী জসিম উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আ মা ম মুবিন। প্রধান বক্তা ছিলেন ইসলামকি ফ্রন্ট বাংলাদেশ চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলার সভাপতি স ম হামেদ হোসাইন। কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক মুহাম্মদ নাছিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,- প্রবীন আলেমেদ্বীন আল্লামা মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, চট্টগ্রাম মহানগর ইসলামিক ফ্রন্ট এর সহ সভাপতি অধ্যক্ষ এম ইব্রাহীম আখতারী, অধ্যক্ষ আল্লামা নুরুল আমিন, কে এম নুরুল ইসলাম হুলাইনী, স ম শওকত আজিজ, আব্দুল্লাহ আল রেজা,মাওলানা মঈনুল ইসলাম তালুকদার ফরহাদ, জামাল উদ্দীন চৌধুরী, মাষ্টার এম এ হাসেম, হারেছ উদ্দীন দৌলতী, মুহাম্মদ বেলাল আলমদার, সেকান্দর রহমান কায়সার, কাজী মাওলানা নুরুল আলম, মাওলানা আব্দুন নুর, ডা: রফিকুল আলম, আবু নোমান বাদশা, মুহাম্মদ ইলিয়াছ আনছারী, ছাত্রনেতা এনামুল হক এনাম, আব্দুল্লাহ আল মুমিন, মহিউদ্দীন রুহী, মুহাম্মদ তসলিম ও তানিম হোছাইন প্রমুখ। কাউন্সিলে উপস্থিত ডেলিগেটদের প্রত্যক্ষ ভোটে এ এম মঈন উদ্দীন চৌধুরী হালিমকে সভাপতি, মুহাম্মদ নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক, কাজী মাওলানা নুরুল আলমকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কার্যকরী পরিষদ গঠন করা হয়।

Comments

comments

Related Post